বন্ধুকে হত্যার আগে ইন্টারনেটে অজ্ঞান করার ওষুধের নাম খুঁজেছিলেন নাজিম উদ্দিন। এরপর কোমলপানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যবসায়ী বন্ধু ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুমকে (৩৭) হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তিনি ও তার আরেক বন্ধু মো. স্বপন (২৮), এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর বুধবার এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নাজিম মদনাই গ্রামের ছেলে। তিনি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আশায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। তার বন্ধু স্বপনও একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ৭ আগস্ট ওয়াহেদকে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে নাজিম ও স্বপন ছিলেন। একপর্যায়ে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। পরে তিনি মারা গেলে রাতে তার লাশ বস্তায় ভরে ওই এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে নাজিম ও স্বপন তাদের কর্মস্থল থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় লিঙ্গের ওয়াহেদ ওরফে নিঝুম বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে তার বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে ওই বেসরকারি সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই টাকা থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। পরে টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পুলিশের ভাষ্য, এই বিরোধ থেকেই ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
এদিকে ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত ১২ আগস্ট বগুড়া শহরের মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশটি দাফন করা হলেও পরে স্বজনদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতের মুঠোফোনের কল ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। পরে ওয়াহেদের ভাই সোহেল হোসেন বৃহস্পতিবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিকালে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করে নাজিম ও স্বপনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, নাজিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপর আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


