ঝড়ে পড়ে থাকা শত শত গাছ রাতের আঁধারে চুরির অভিযোগ

ঝড়ে পড়ে থাকা শত শত গাছ রাতের আঁধারে চুরির অভিযোগ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

নওগাঁর ধামইরহাটে ঝড়ে পড়ে যাওয়া শত শত শাল, আকাশমনি ও ইউক্যালিপটাস গাছ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও সেগুলো সরানো হয়নি। এর মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রাতের আঁধারে গাছ চুরির অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগ লোকবল সংকটের কথা বললেও স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরদারির অভাবেই গাছ চুরি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানের শালবনে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়।

পত্নীতলা উপজেলার পাইকবান্দা বনবিটের আওতাধীন ধামইরহাট ইউনিয়নের জয়জয়পুর এলাকায় ২৬৪ দশমিক ১২ হেক্টরজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই শালবন।

সরেজমিনে বনের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে শত শত গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়। অধিকাংশ গাছের ডালপালা কাটা ও ছালবাকল তোলা। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় সেগুলো নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের নজরদারির অভাবে দুর্বৃত্তরা বনের ভেতর থেকে শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বাইরে বিক্রি করছে। গুঁড়ি করে রাখা শালগাছের বিভিন্ন অংশও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গভীর রাতে বাইরে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

বনের ভেতরে দীঘির পশ্চিম পাড়ে প্রায় অর্ধশত মৃত শালগাছ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গাছ প্রায় আড়াই বছর ধরে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। বন বিভাগ সেগুলো সরানোর উদ্যোগ নেয়নি।

আরও পড়ুন

প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলতাদীঘিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, নজরদারি ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শালবনটি এখন দুষ্কৃতকারী ও বনখেকোদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। তারা দ্রুত বনটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘বন বিভাগের কর্মচারীদের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্পর্ক রয়েছে। লোকবল সংকটের কথা বলে বন বিভাগ ঝড়ে পড়ে থাকা গাছ দীর্ঘদিন ফেলে রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর সুযোগ বুঝে লোকচক্ষুর আড়ালে গভীর রাতে গাছ চুরি শুরু হয়। তাদের ছত্রছায়ায় শালবনে নানা ধরনের অপকর্মও চলে।’

তবে গাছ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বনবিট কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত বছর ঝড়ে আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস ও কিছু শালগাছ উপড়ে পড়ে। শ্রমিক সংকটের কারণে সেগুলো কাটা সম্ভব হয়নি।’

আনিসুর রহমান আরও বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে পড়ে থাকা গাছগুলো কেটে পর্যটক ও স্থানীয়দের চলাচলের পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের একটি তালিকা রাজশাহী বন বিভাগে দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, ‘আলতাদীঘি শালবন নিয়ে নানা অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। তবে শালবনের ভেতরে গাছ পড়ে নষ্ট হওয়া ও চুরির বিষয়ে বন বিভাগ আমাকে কিছু জানায়নি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর