চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাঠে তিন বছর ধরে নেই নিয়মিত লিগ। এতে একদিকে খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতামূলক খেলার সুযোগ কমেছে, অন্যদিকে অনেকেই জীবিকার তাগিদে জড়িয়ে পড়েছেন ভিন্ন পেশায়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত লিগ-টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং নির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছেন চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের কাজির দেউড়ির সিজেকেএস মিলনায়তনে সংস্থাটির এডহক কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান ক্রিকেটার, ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠকেরা। সভায় শতাধিক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সালাউদ্দিন বলেন, আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে সিজেকেএসের নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত কমিটির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। নির্বাচন কোনো ভয়ভীতি বা দখলের মাধ্যমে হবে না। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকেরা নেতৃত্বে আসবেন।
তিনি বলেন, এডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন মাস সাত দিন পার হয়েছে। শুরুতে নির্বাচন ও কাউন্সিলর গঠনের কাজ অনেকটা এগিয়েছিল। পরে আইনি জটিলতার কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সেই জটিলতা এরই মধ্যে নিরসন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ক্রিকেট লিগ চালুর বিষয়েও আশাবাদ জানান সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে চিঠি এসেছে। জেলা প্রশাসন ও এডহক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে লিগ শুরুর বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। বিসিবির পরিচালক ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ইসরাফিল খসরুর সঙ্গেও এ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
সালাউদ্দিন বলেন, প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ আয়োজনের জন্য কমপক্ষে ১২টি দল প্রয়োজন। দলগুলোও প্রস্তুত রয়েছে। তবে লিগ আয়োজন নিয়ে ষড়যন্ত্র হতে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রামের মাঠে খেলা না থাকায় অনেক ক্রিকেটার ও ফুটবলার জীবিকার জন্য অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। কেউ পাঠাও চালাচ্ছেন, কেউ ফুডপান্ডায় কাজ করছেন- সভায় এমন কথাও উঠে আসে। বিষয়টিকে ‘হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে সালাউদ্দিন বলেন, যে মাঠ থেকে তামিম ইকবাল ও মামুনের মতো জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছেন, সেখানে খেলাধুলা বন্ধ থাকতে পারে না।
তবে ক্রীড়া সংগঠকদের বড় অংশের বক্তব্য, শুধু নির্বাচন নয়, নিয়মিত লিগ আয়োজনই এখন সবচেয়ে জরুরি। খেলোয়াড়দের জন্য নির্দিষ্ট খেলার ক্যালেন্ডার বা বার্ষিক সূচি ঘোষণার দাবিও ওঠে সভায়।
ক্রীড়া সংগঠক ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সাত সদস্যের এডহক কমিটির পাঁচজনই আমলা। বাকি দুজনের মধ্যে সালাউদ্দিন আহমেদ ছাড়া অন্যজনের খেলাধুলার সঙ্গে তেমন সম্পৃক্ততা নেই। আগের আহ্বায়ক কমিটি দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থেকেও ক্রীড়া উন্নয়নের পরিবর্তে নানা বিতর্কে জড়িয়েছে।
সভায় ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে আম্বিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্রিকেটার আবুল হাসেম রাজা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, চট্টগ্রামের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা দেখে তার কান্না আসে। একসময় চট্টগ্রাম থেকে একসঙ্গে সাত-আটজন ক্রিকেটার জাতীয় দলে খেলতেন। এখন মাঠের ক্রিকেটের দুরবস্থার কারণে জাতীয় দলে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্বও কমে এসেছে।
ক্রিকেটার ও ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, প্রায় ২৪-২৫ বছর ধরে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত তিনি। কিন্তু গত তিন বছর চট্টগ্রামে নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুযোগ নেই। অনেক খেলোয়াড় নিজেদের অর্থ খরচ করে দেশের বাইরে খেলতে বাধ্য হচ্ছেন।
সভায় উপস্থিত খেলোয়াড়েরা জানান, দীর্ঘদিন লিগ বন্ধ থাকায় তাদের ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তাদের কাছে নির্বাচন কবে হবে, তার চেয়েও নিয়মিত লিগ আয়োজন এবং খেলার নির্দিষ্ট সূচি পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মতবিনিময় সভায় জাতীয় ফুটবলার মোহাম্মদ শাহেদ ও নাছির উদ্দিন, ক্রিকেটার ইকবাল বাহার, সাংবাদিক সাত্তার ও তানভির আহমেদ, সিজেকেএস কাউন্সিলর সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, ক্রীড়া সংগঠক নূর জাহেদ বাবলুসহ অনেকে বক্তব্য দেন।


