পরিচয়হীন মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত, সংরক্ষিত থাকবে ডিএনএ

পরিচয়হীন মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত, সংরক্ষিত থাকবে ডিএনএ
মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: এনডিটিভি
Advertisement
Advertisement

নেপাল-চীন সীমান্তে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া শত শত পরিচয়হীন ও দাবিহীন মরদেহগুলো দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। পচন ধরে যাওয়া মরদেহগুলো থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় এবং অসংখ্য মরদেহ গলে বিকৃত হতে শুরু করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিড় খবরে বলা হয়, যেসব মরদেহের পরিচয় পাওয়া যায়নি, সেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে দাফন করা হবে। যেকোনো সময় নিখোঁজ স্বজন খুঁজতে আসা ব্যক্তিরা তাদের ডিএনএ নমুনা জমা দিয়ে মিলিয়ে দেখতে পারবেন। কারও স্বজন এই প্রক্রিয়ায় খুঁজে পাওয়া গেলে তাদের দাফনস্থল দেখিয়ে দেওয়া হবে।

গত বুধবার সকালে তিব্বত সীমান্তে হিমালয় থেকে হিমবাহধসে প্রবল পানির স্রোত ও কাদার ঢল অনেকটা সুনামির মতো ভাসিয়ে নিয়ে যায় পাহাড়ের নিম্নাঞ্চল। এখন পর্যন্ত নেপালে অন্তত ৬৭৫টি ও চীনে অন্তত ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

চিতওয়ান জেলায় মরদেহ সংরক্ষণ করা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে হাসপাতালগুলোতে মরদেহ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। পচন ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ সাময়িক ব্যবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

শনিবার জেলার কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন, যেসব মরদেহের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি এবং যেগুলোর কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি, সেগুলো দাফন করা হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মরদেহের পচন বৃদ্ধি এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আমরা একটি বাড়িকে হিমায়িত সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলাম, সেখানে মরদেহ রাখা হচ্ছিল। কিন্তু পরে ওই বাড়িতেও আর জায়গা ছিল না। এ অবস্থায় মরদেহ দাফন করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’

তবে দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্ত করার সুবিধার জন্য প্রতিটি মরদেহের আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর ও সংরক্ষণসংক্রান্ত তথ্য রাখা হচ্ছে।

প্রতিটি মরদেহের জন্য একটি নির্দিষ্ট শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হয়েছে এবং কোথায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো স্বজনের সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট মরদেহের কবর থেকে দেহাবশেষ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন

শনিবার বিকাল পর্যন্ত ১০০টির বেশি মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

মরদেহ দাফনের জন্য খনন করা গর্তগুলোর গভীরতা রাখা হচ্ছে ১ দশমিক ৫ মিটার। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যাতে সহজে মরদেহ তুলে আনা যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

একটি মরদেহ থেকে অন্যটির মধ্যে ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট মরদেহটিই আলাদাভাবে তুলে আনা সম্ভব হয়। প্রতিটি মরদেহ শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া ব্যাগে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি দাফনস্থলে একটি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে একটি সাইনবোর্ডে সংশ্লিষ্ট মরদেহের শনাক্তকরণ নম্বর উল্লেখ থাকবে।

দাফনের পুরো প্রক্রিয়া ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে নথিভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি দাফনস্থলের ভৌগোলিক অবস্থানও সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে মরদেহ খুঁজে বের করতে কোনো সমস্যা না হয়।

নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে আগ্রহী ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের মাধ্যমে ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ সেগুলো মরদেহ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মরদেহের নম্বর শনাক্ত করা হবে। এরপর পুলিশ সংরক্ষিত নথি দেখে জানাবে, ওই নম্বরের মরদেহ কোন স্থানে দাফন করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে কবর থেকে মরদেহ তুলে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অথবা স্বজনরা চাইলে মরদেহ দাফনস্থলেই থাকবে।

এদিকে নেপাল পুলিশ পরিচয়হীন ও দাবিহীন মরদেহগুলোর তথ্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যাতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে পারেন। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক বিদেশিসহ নেপালে এখনো দুই হাজার ৪৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে চীনে বিদেশিসহ নিখোঁজ আছেন ৫৪৬জন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad