গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মার্কিন আলোচক জ্যারেড কুশনার। রোববার মিসরে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এ বৈঠক হয়। গাজা যুদ্ধবিরতির অচলাবস্থা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত নতুন ১৫ দফা রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথ খুঁজতেই এ আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে কুশনারের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী মিসর, কাতার ও তুরস্কের কর্মকর্তারাও ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও হামাসের এক কর্মকর্তা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত
নতুন রোডম্যাপের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার। যুদ্ধের কারণে বিপর্যস্ত গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন ও উপত্যকাটির পুনর্গঠনও এর সঙ্গে যুক্ত।
বৈঠকের পর হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতি রোডম্যাপ অনুমোদনে ইসরায়েলকে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইসরায়েলি সরকারের মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। কুশনার সোমবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে ইসরায়েলের অবস্থানের সমালোচনা করেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হলে এর দায় ইসরায়েলকেই নিতে হবে। রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বাধা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘বোর্ড অব পিস’-কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
হামাস জানিয়েছে, তারা রোডম্যাপ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ১৪ দিনের আলোচনার সময়সীমা শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। তবে হামাসের দাবি, বাস্তবায়ন শুরুর আগে ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। হামাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েল গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
রোডম্যাপ অনুযায়ী, গাজার প্রশাসনের দায়িত্ব নিতে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিনি কারিগরি কমিটির কাছে হামাসকে ধীরে ধীরে অস্ত্র হস্তান্তর করতে হবে। তবে কমিটি এখনও গাজায় কাজ শুরু করেনি। হামাস ভারী অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইলেও ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর অবস্থান হলো, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। ফলে পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনসহ যুদ্ধবিরতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও আটকে আছে।
এদিকে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। গাজা ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত জোটের সমর্থন ধরে রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকার চ্যালেঞ্জে রয়েছেন নেতানিয়াহু। ফলে নির্বাচনের আগে তিনি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় কতটা ছাড় দেবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।


