চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া প্রকাশ তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
নিহতরা হলেন আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তাদের মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে পরিবারের পাঁচ বছরেরে ছেলে পিয়াস বড়ুয়া।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে রাতেই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম গঠন করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে রিমন বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার পর আসামি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সুজন বড়ুয়ার ঋণসংক্রান্ত কিছু স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে রিমন বড়ুয়া একটি চাকু নিয়ে বাড়ির পেছনে ওঁৎ পেতে ছিলেন। এ সময় এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হয়ে তাকে দেখে ফেললে চিৎকার করেন। তখন আসামি তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করেন। পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রিয়ন্তী ঘটনাস্থলে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যান আসামি। পরে তার দেখানো মতে বাড়ির পেছনের একটি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু এবং পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গম এলাকায় আসামির আত্মগোপনের চেষ্টা এবং আলামত গোপন করার নানা কৌশল সত্ত্বেও অল্প সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


