মোমিন মেহেদী-শান্তাসহ ৬ জনের জামিন নামঞ্জুর

মোমিন মেহেদী-শান্তাসহ ৬ জনের জামিন নামঞ্জুর
গ্রেপ্তার মোমিন মেহেদী ও ফারজানা শান্তা। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী ও জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

শুনানিতে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নতুন ধারা বাংলাদেশের মানবাধিকার, গণতন্ত্র নিয়ে কাজ করে। এটা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না। তারা ঘটনার সাথে জড়িত না। জামিনের প্রার্থণা করছি।’

এ মামলায় অপর আসামিরা হলেন- নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরী  সরকার।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন । মামলায় এই ছয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং বর্তমান সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। শান্তা ফারজানা ঢাকা মেডিকেলে প্রবেশ করার পর তারেক রহমানকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী এবং জুলাই আন্দোলনকে জঙ্গী আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। শান্তা ফারজানা, মোমেন মেহেদী ইতোপূর্বে গণমাধ্যমে এসে আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে, শেখ হাসিনাকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেন। জুলাই পরবর্তী নবগঠিত বিএনপি সরকারকে উৎখাত করার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সরকার বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে। জুলাই আন্দোলনে প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে মাদকাসক্ত, নেশাখোর বলে কটাক্ষ করে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ থানার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আসামিরা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল করে। তারা তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করার জন্য জনসম্মুখে কালো আইন বাতিল, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে।

বাবুল সরকার এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালান।

এদিন সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে।

এতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকে। পরে স্বল্প সময়ের জন্য সেবা চালু হলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তা আবার ব্যহত হয়।

রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ১১টার দিকে তাদের শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad