গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আউটপাড়া এলাকার একটি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে সরকারি পদমর্যাদা ও প্রভাব খাটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী তৌহিদুল ইসলাম মজিবর।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তিনি ও তার পাঁচ বোন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির মালিক। দীর্ঘদিন ধরে তারা সীমানা নির্ধারণ করে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন এবং ওই জমিতে একটি মার্কেট ও বসতবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। জমির খতিয়ান, নামজারি, খাজনাসহ ভূমি-সংক্রান্ত সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র তাদের নামেই রয়েছে। তার অভিযোগ, তার সৎ বড় ভাইয়ের মেয়ের জামাই, যিনি একজন বিচারক; সরকারি ক্ষমতা ও প্রভাবের অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারকে হয়রানি করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই বিচারক তার স্ত্রীকে দিয়ে হাজী হোসেন পাইকারী মার্কেটের দোকানদারদের কাছে নোটিশ পাঠিয়ে ভাড়া তার স্ত্রীকে পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ এর পক্ষে কোনো বৈধ মালিকানার দলিল বা আদালতের আদেশ নেই। ব্যবসায়ীরা ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন জেলায় গণধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের মতো মামলা দেওয়া হয়েছে। এমনকি গভীর রাতে দোকানদারদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভাড়া আদায়ের চেষ্টাও করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাজী হোসেন পাইকারী মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির খান ও সহসভাপতি সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তৌহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার হারুনের মাধ্যমে তাকে তুলে নিয়ে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়েছিল, যা তদন্তে প্রমাণিত না হওয়ায় পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে দুটি মানবপাচারের মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ওই বছরের আগস্ট পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম কারাগারে ছিলেন।
চট্টগ্রামের মামলার নিষ্পত্তির আগেই তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও দুটি এবং নারায়ণগঞ্জে একটি মানবপাচারের মামলা দেওয়া হয় এবং এসব মামলায় তার আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদেরও আসামি করা হয়। ২০১৯ সালের আগস্টে চট্টগ্রামের মামলায় তিনি বেকসুর খালাস পেলেও ২০২১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ব্লকের অজুহাতে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ধরনের বিচারবহির্ভূত নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের পরিবার, মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তৌহিদুল ইসলাম।


