বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর করল যুক্তরাষ্ট্র
ফাইল ছবি। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যে ওপর নতুন করে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ।

শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় সব পণ্যই নতুন শুল্কের আওতায় আসবে। তবে তেল-গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং কয়েকটি খাতকে এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (এমএফএন) শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

এ ছাড়া চীনসহ আরও ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে চীনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আসছে, যদিও বেইজিং তা অস্বীকার করে।

তবে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পৃথক বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক নির্ধারিত সীমার বেশি হবে না বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার।

আরও পড়ুন

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অনেক দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সে কারণেই ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে জেমসন গ্রিয়ার বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। এখন সময় এসেছে অন্যান্য দেশও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার।
তার ভাষ্য, নতুন শুল্ক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে তৈরি হওয়া বৈষম্য কমাতে সহায়ক হবে।

নতুন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে কয়েকটি দেশ। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে নরওয়ের কার্যকর আইন রয়েছে। তাই তাদের ওপর এ শুল্কের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও এ শুল্ককে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। কানাডা একে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফা’ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করলেও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থার আইনের আওতায় ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাতিল করে দেয়। এরপর প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার শেষ হয়। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে ২৮ জুলাইয়ের আগে পর্যন্ত ছাড়া পণ্য নতুন এ শুল্কের বাইরে থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্কের হার আগের অস্থায়ী শুল্কের কাছাকাছি হলেও এবার তা সেকশন ৩০১-এর আওতায় আরোপ করা হয়েছে। ফলে এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও টিকে থাকার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে অনেক কঠোর ব্যবস্থা নেয়। একই মানদণ্ড অনুসরণ না করায় অন্য দেশগুলো অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে বলেই প্রশাসনের এ পদক্ষেপ।

নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে তেল-গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, গাড়িসহ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শুল্কের আওতাভুক্ত পণ্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও এ শুল্কের বাইরে থাকবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad