ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও জবাবদিহির দাবির মুখে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত যোশিকে প্রত্যাহার করেছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। গত মে মাসে প্রশ্ন ফাঁসের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে ২০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্ষোভ শুরু করে ভারতের তরুণ ছাত্রজনতা।
শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক সমর্থন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়ার শঙ্কায় তাড়াহুড়ো করে এ সিদ্ধান্ত নিল মোদি সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে বিনীত যোশিকে সরিয়ে নেওয়ার মতো বড় পদক্ষেপ- আন্দোলন দমনে কেন্দ্র সরকারের নমনীয় হওয়ার প্রমাণ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বিনীত যোশির জায়গায় সরকারের জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নরেশ পাল গাঙ্গওয়ারকে উচ্চশিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে এ পরিবর্তনের কথা জানানো হয়।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া বিনীত যোশিকে এখন পঞ্চায়েত রাজ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি কর্মজীবনের বড় একটি সময় শিক্ষা খাতে কাটিয়েছেন। উচ্চশিক্ষা সচিব হওয়ার আগে তিনি কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পরে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অবশ্য কেন্দ্র সরকারের দাবি, বিনীত যোশির বদলি সরকারের বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদলের অংশ। এই রদবদলে ১৩টি নতুন নিয়োগ এবং একই পদে থেকে চার কর্মকর্তার পদমর্যাদা উন্নীত করা হয়েছে।
রদবদলের আওতায় গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব টি কে অনিল কুমারকে স্কুলশিক্ষা বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিনীত যোশির বদলিকে চলমান আন্দোলন বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত না করলেও ক্ষমতাসীন দলের একজন সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে উদাসীনতা দেখানোর কারণেই তাকে সরানো হয়েছে।
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে বলেন, ‘নিটের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে না দেখে বিনীত যোশি বরং এই আন্দোলনকে আরও উস্কে দিয়েছেন। তার উদাসীনতাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দায়ীদের পাশাপাশি যারা অবহেলা বা উদাসীনতা দেখিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভাগগুলোতে রদবদলের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার রাতেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতও গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাতে এক ভিডিও বার্তায় শুক্রবার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
নতুন উচ্চশিক্ষা সচিব নরেশ পাল গাঙ্গওয়ার মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি রাজস্থান সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
উচ্চশিক্ষা বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কারিগরি শিক্ষা এবং জাতীয় শিক্ষা নীতির অধীনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৈরি হওয়া সংকটের মধ্যে ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থী ও জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জও তাকে মোকাবিলা করতে হবে।


