আড়াই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফকে পাবনার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে।
গত ৭ মে পাবনার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. ছুফি উল্লাহ। দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদক ব্যবসা, মাদকসেবন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে জেলায় এক হাজারের বেশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হয়।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আড়াই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তার বদলির আদেশ জেলায় নানা আলোচনা তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাবনায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা ছিল। বিভিন্ন সময়ে পাবনা শহরসহ কয়েকটি এলাকায় শেখ হাসিনার পক্ষে বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযানও শুরু হয়।
এ ছাড়া, গত ১৬ জুলাই রাতে সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন আহত হন।
এদিকে জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে পাবনায় এসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে দুই শিক্ষার্থী হত্যার মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
তবে মো. ছুফি উল্লাহর বদলির কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বদলির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মো. ছুফি উল্লাহ আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কেন বদলি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’


