জনপ্রতিনিধিরা সক্রিয় থাকলে মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়: ডেপুটি স্পিকার

জনপ্রতিনিধিরা সক্রিয় থাকলে মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়: ডেপুটি স্পিকার
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শনে কায়সার কামাল। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি মাঠে এসে দায়িত্ব পালন করলে রাষ্ট্রের নীতিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং মানুষের সমস্যাও দ্রুত সমাধান হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন দেশে গণতন্ত্র ছিল না, যে কারণে মানুষ তাদের কাঙ্ক্ষিত জনপ্রতিনিধি পায়নি এবং সমস্যাগুলোও অবহেলিত ছিল। জনপ্রতিনিধিরা যদি সরাসরি মাঠে এসে দায়িত্ব পালন করেন, তবে রাষ্ট্রের নীতিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়। আমরা জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বদা পাশে আছি।’

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর-কলমাকান্দা এলাকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ঢলের তাণ্ডবে খারনৈ ইউনিয়নে অবস্থিত গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভবনটির একাংশ ধসে পড়ে এবং পানিতে তলিয়ে যায়।

এ ছাড়া, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়কটিও ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং অন্যান্য কাঁচা ও পাকা সড়কেও পানির তোড়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টি পরিদর্শনের সময় কায়সার কামাল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা স্থানীয়ভাবে আলোচনা করেছি। আপাতত শিক্ষার্থীদের পাঠদান যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য স্থানীয় এক ভদ্রলোকের বৈঠকখানায় অস্থায়ীভাবে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইতিমধ্যে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেছেন। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টির জন্য স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি সংস্কারের পরিবর্তে নতুন জায়গায় স্থানান্তরের ওপর জোর দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘বর্তমান স্থানে বিদ্যালয়টি মেরামত করা হলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় ফ্লাশ ফ্লাডে তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কন্টিনজেন্সি প্ল্যানের অংশ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপে পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন স্থানে বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। আমি নিজে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করব।’

যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এলজিইডির প্রকৌশলী ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট পরিদর্শন করছেন। জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাগুলো মেরামত করা হবে এবং পরবর্তীতে এই অঞ্চলে সাবমার্সিবল রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে, যাতে বন্যার সময় রাস্তাগুলো টিকে থাকতে পারে।

পরিদর্শনকালে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল আজম, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হকসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad