চাঁদপুরের নদী উপকূলীয় আড়ত ও বাজারে অবাধে পাঙাশের পোনা বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হরিণা মাছঘাটের প্রতিটি আড়তে এই চিত্র দেখা গেছে।
ছোট পাঙাশ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও এ নিয়ে কারও মধ্যে সচেতনতা নেই। সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকেও পোনা রক্ষায় কোনো অভিযান নেই।
৩০ সেন্টিমিটারের নিচের পাঙাশ ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কেউ এই নিয়ম মানছেন না। বাজারে বড় সাইজের পাঙাশ প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ছোট পোনা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, লজিস্টিক সাপোর্ট ও লোকবল সংকটে নদী এবং আড়তে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
শহরের ওয়ারলেছ বাজার, পালবাজার, বিপনীবাগ বাজার, মিশন রোড মোড় ও বহরিয়া বাজারে সরেজমিন পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি করতে দেখা গেছে। লালপুর, আনন্দ বাজার, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বহরিয়া মৎস্য আড়ত ও হরিণা মাছঘাটেও খোলামেলা হাঁকডাক দিয়ে এই ছোট পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে।
ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, ‘ইলিশের জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা পড়ে। আগে কম ছিল, এখন বেশি। ইলিশ ও পাঙ্গাশের পোনা আলাদা দরদামে বিক্রি হয়।’
ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, ‘গত বছর এই সময় নদীতে প্রচুর ছোট ইলিশ পাওয়া গেছে। এবার ইলিশ না মিললেও জালে ছোট পাঙাশ বেশি ধরা পড়ছে। জেলেরা নদীতে যা পান, সবই আড়তে এনে বিক্রি করেন। তবে ছোট পাঙাশ না ধরাই উত্তম, বড় হলে দাম বেশি পাওয়া যায়।’
এই ঘাট থেকে পোনা কিনে শহরের বিপনীবাগ বাজারে বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ী শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘আজ হরিণা ঘাট থেকে ৪ কেজি পাঙ্গাশের পোনা কিনেছি ৬০০ টাকা করে। এগুলো শহরে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করব।’ এই ঘাটে প্রতিদিন কয়েক মণ পাঙাশের পোনা কেনাবেচা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙাশ মাছ ধরা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। জাটকা রক্ষায় আমরা অভিযান করেছি। এখন লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরেও সদর মৎস্য অফিসকে অভিযানের নির্দেশনা দেওয়া হবে।’


