ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রশাসনের বিভিন্ন ‘অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগ তুলে ছাত্রদল বলেছে, ‘অভিযোগের সঠিক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই।’
ডাকসু নির্বাচনে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বসহ ১১ দফা ‘অনিয়মের অভিযোগ’ এনেছে ছাত্রদল সমর্থিত আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ। নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন নিয়ে আবারও নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে সংগঠনটি। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান।
আবিদ বলেন, ‘২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের অসঙ্গতি, অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ পর্যালোচনা চলবে। প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট না করা পর্যন্ত আমাদের জায়গা থেকে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানালেও আমাদের শিক্ষকেরা কোনো সমাধান না দিয়ে বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন।’

‘নির্বাচনে “অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগের” মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট সরবরাহ, ভোটার উপস্থিত হওয়ার আগেই স্বাক্ষর প্রদান এবং ভোটার উপস্থিতি ও ভোট প্রদানের সংখ্যার অসামঞ্জস্য। প্রার্থীরা ভোটার তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি,’ বলেন তিনি।
ছাত্রদল নেতাদের আরো অভিযোগ, ‘ব্যালট পেপার সংক্রান্ত ইস্যুতে একাধিক প্রার্থী ও পোলিং এজেন্ট যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দায়ের করার পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত না করে অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেছে। এছাড়াও নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট কোন প্রেস থেকে ছাপানো হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি এবং নীলক্ষেতের গাউসুল আজম মার্কেটের ছাপাখানায় অরক্ষিত ব্যালট পাওয়া গেছে।’

‘ভোট গণনা মেশিন ও সফটওয়্যারের নির্ভুলতা যাচাইয়ের সময় ভোটার ও প্রার্থীদেরকে অবহিত করা হয়নি। পোলিং এজেন্টদের তালিকা ভোটের মধ্যরাতে প্রকাশ করা হয়েছে, প্রার্থীদের প্রস্তাবিত কেন্দ্র থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আইডি কার্ড যথাসময়ে না পাওয়ায় অনেক পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি। নির্ধারিত আটটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও ১৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হওয়ায় পোলিং এজেন্টদের নিয়োগে অসুবিধা তৈরি হয়েছে,’ বলেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল আরো বলেছে, ‘পোলিং অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়া অস্পষ্ট ছিল এবং অনেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইড সদস্যদের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা এবং বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের অভিযোগও এসেছে। ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্টদের কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখার বিষয়ও উল্লেখ করেছেন তারা।’
‘অস্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার, মার্কার না থাকায় বলপেন দিয়ে ভোট প্রদান, ওএমআর মেশিনে সঠিক গণনা না হওয়া এবং অস্থায়ী কালি ব্যবহারের কারণে একাধিক ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে,’ যোগ করেন ছাত্রদল নেতারা।


