রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের এলাকায় ইউক্রেন ব্যাপক ড্রোন হামলা করেছে। এই হামলাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে মস্কো। হামলার সময় শহরটিতে চলছিল রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফোরামের শেষ দিনের কার্যক্রম।
রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, অঞ্চলজুড়ে ১৪০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর হামলার সময় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানান। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এ ধরনের নির্দেশ এই প্রথম দেওয়া হলো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, তার দেশের বাহিনী রাশিয়ার অস্ত্রাগার এবং নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে। তিনি এটিকে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার ‘ন্যায্য জবাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর একদিন আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের কোনো প্রয়োজন নেই।
রুশ কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, হামলায় একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন লাগে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কিছু ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে অবস্থিত রুশ নৌবাহিনীর অস্ত্রাগার ও ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এখানেই রয়েছে রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি।
তিনি আরও দাবি করেন, দক্ষিণাঞ্চলের ক্রাসনোডার ক্রাই অঞ্চলে অবস্থিত একটি তেল সংরক্ষণাগারেও হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেন এসব দূরপাল্লার হামলাকে ‘লং-রেঞ্জ স্যাংশনস’ নামে উল্লেখ করছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৩৩৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, কৃষ্ণসাগরে মানবিক মিশনে থাকা দুটি বেসামরিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার জাহাজে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।
গত বৃহস্পতিবার পুতিনকে লেখা এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতি ও সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ভুল হবে।
তবে শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন শুধু পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেছেন, রাশিয়ার লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ হবে না। মস্কোর দীর্ঘদিনের দাবি, ইউক্রেনের দনেতস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টাও পরিত্যাগ করতে হবে।
ইউক্রেন এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে রাশিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের চার বছরে ইউক্রেন নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ফলে এখন তারা নিয়মিতভাবে রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি অবকাঠামো, তেল স্থাপনা ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে।


