নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার বিকালে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে মেঘনা নদী থেকে কাউছার মিয়া (৩৫) নামে একজনের টেঁটাবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে এ ঘটনায় দুজন মারা যান।
নিহত কাউছার ওই ইউনিয়নের শাহ আলম মিয়ার ছেলে। অপর দুজন হলেন সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া ও পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২)।
পুলিশের ধারণা, কাউছারকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে স্রোতে ভেসে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আট থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহ রায়পুরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জবা ও মিস্টার গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে মিস্টার গ্রুপের মামুন নামে এক প্রবাসী হত্যার পর জবা মেম্বার ও সহযোগী আলাল মুন্সিসহ তাদের লোকজন এলাকাছাড়া ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে আলাল মুন্সি ও জবা মিয়ার অনুসারীরা স্পিডবোটে করে ভাড়াটে অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করেন।
তারা প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যা সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পর দুইজনের মৃত্যু হয়।


