রাজধানীর সব গুরুত্ব স্থাপনার সামনে মহড়া দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবার বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই মহড়া চলে।
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা, বাংলাদেশ সচিবালয়, হাইকোর্ট, বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে এই মহড়া দেয় পুলিশ।
একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে কাইকরাইল গির্জায় ককটেল নিক্ষেপ, ধানমন্ডি শংকর এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
শনিবার সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে সব জোনের ডিসি এবং থানার ওসিদের নিয়ে সভা করেছেন পদস্থ কর্মকর্তারা।
সভায় ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী আইনশৃঙ্খলা ও জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনায় নজরদারি ও টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
আগামি ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ লকডাউনের যে প্রচারনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালাচ্ছে সেদিকে পুলিশকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।
বিএনপি ও জামায়াত আসনভিক্তিক প্রার্থী ঘোষণা করার পর অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা সন্ত্রাসীরা যাতে কাউকে টার্গেট করতে না পারে সেদিকে থানা পুলিশকে বিশেষ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার।
সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা না হলেও একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত অনেকের ক্ষোভ রয়েছে। আবার আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।
এ অবস্থায় সংঘাত ও সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। বিট পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের সঙ্গে থানা পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সোর্সদের আরও তৎপর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
ভাটারা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মিজানুর রহমান, গেন্ডারিয়া থানার ইন্সপেক্টর মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ বিকালে জানিয়েছেন, হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনা পেয়ে রাস্তায় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে পুলিশ শোডাউন করেছে। শোডাউন মূলত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের হুঁশিয়ারি।


