ট্রাম্পের চীন সফর শুধু কূটনৈতিক দিক থেকেই নয়, বরং আরও এক কারণে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তা হলো, বৈঠকে করপোরেট বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতি।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে এক ডজনের বেশি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও শীর্ষ করপোরেট নির্বাহী চীনে গেছেন।
এই সফরে প্রযুক্তি, আর্থিক খাত, মহাকাশ, প্রতিরক্ষা ও উৎপাদনশিল্পের প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। সফরসঙ্গীদের তালিকায় ছিলেন আপেল কোম্পানির টিম কুক, মহাকাশ ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও টেসলার সিইও ইলন মাস্ক, ব্ল্যাক রকের ল্যারি ফিংক এবং ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন শোওয়ার্জম্যান।
এ ছাড়া সফরে অংশ নেয় বিশ্বের বৃহৎ উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের সিইও কেলি অর্টবার্গ, কৃষিপণ্য জায়ান্ট কারগিলের ব্রায়ান সাইকস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটির প্রধান নির্বাহী জেন ফ্রেজার।
প্রযুক্তি খাত থেকেও ছিল বড় উপস্থিতি। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং, কোয়াল কমের’র ক্রিস্টিয়ানো অ্যামন এবং মাইক্রোন টেকনোলজির সঞ্জয় মেহরোত্রা।
পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মেটার নির্বাহী ডিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক, গোল্ডম্যান স্যাশের সিইও ডেভিড সলোমন এবং ভিসার প্রধান নির্বাহী রায়ান ম্যাকাইনেরি।
হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংকে সফরের একেবারে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প নিজেই আমন্ত্রণ জানান। অন্যদিকে সিসকো সিইও চাক রবিন্সকে হোয়াইট হাউস সফরে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি অংশ নিতে পারেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও ট্রাম্পের এ সফরে শীর্ষ করপোরেট নেতাদের অংশগ্রহণ বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত স্বার্থকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, আর্থিক সেবা ও উৎপাদন খাতের কোম্পানিগুলোর উপস্থিতি সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


