সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘ঈদযাত্রায় গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ যাত্রীদের ওপর না পড়ে।’
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মানুষের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে এদিন রাজধানীর ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস কাউন্টার, গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বাসে যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং যাত্রাপথে তাদের কোনো ধরনের সমস্যা বা হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ যেন স্বস্তির সঙ্গে বাড়ি ফিরতে পারেন এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস চলাচল করছে এবং নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে, যাতে যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।’
বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানান সড়ক ও সেতুমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন টোল প্লাজায় রোজাদার যাত্রীদের জন্য সীমিত পরিসরে ইফতারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রাপথে কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোকে আগাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
তিনি জানান, সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো আগেই চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব স্থানে সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে, সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নির্দিষ্ট সংখ্যক লেন চালু রাখা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা চেষ্টা করছি এবারের ঈদযাত্রাকে সুন্দর, স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে। আশা করছি এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না এবং মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে।’
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতারা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


