চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে ডিসি

চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা-নবজাতকের পাশে ডিসি
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামে ফেলে যাওয়া মা ও নবজাতকের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় অসুস্থ স্ত্রী ও নবজাতককে হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন এক ‘পাষণ্ড স্বামী’।

এমন অমানবিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান নবজাতক কন্যা ও তার অসহায় মাকে দেখতে। জেলার অভিভাবক হিসেবে তিনি নবজাতকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা নিয়ে শাহনাজ বেগম শেলী নিজেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা প্রথমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালালেও জটিলতার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে সন্তান জন্মের পরপরই স্বামী বেলাল আহমেদ তাকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান। এতে অসুস্থ মা ও নবজাতক দুজনেই চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন।

এরই মধ্যে সোমবার নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়লে তাকে দ্রুত নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করে ফোটোথেরাপি দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম নিজেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন এবং শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নবজাতকের জন্য শিশুখাদ্য, পোশাক, ডায়াপার ও বিছানাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, বাচ্চাটি এখন সুস্থ আছে এবং খুব শিগগিরই তাকে মায়ের কাছে দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা ও শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিবারকে এভাবে ফেলে না যাওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

নবজাতকের মা শাহনাজ জানান, তার স্বামী আগেই বলেছিল মেয়ে সন্তান হলে রাখবে না এবং সন্তান জন্মের পর থেকে সে আর কোনো খোঁজ নেয়নি।

জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ডিসি স্যার পাশে না দাঁড়ালে তাদের কী হতো তা তিনি জানেন না। শাহনাজের প্রতিবেশী আকলিমা আক্তারও জানান যে, জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে হাসপাতালের যত্ন ও তদারকি অনেক বেড়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও এনআইসিইউ প্রধান মোহাম্মদ শাহীন বলেন, প্রতিটি রোগীই গুরুত্বপূর্ণ, তবে জেলা প্রশাসক নিজে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখায় তারা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছেন।

হাসপাতালে উপস্থিত রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের মাঝেও জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বর্তমানে নবজাতকটি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মানবিক সংকটে প্রশাসনের এমন সরাসরি হস্তক্ষেপ সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad