চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা ঘিরে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে, সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এক পর্যায়ে সাড়ে ১১টার দিকে উভয়পক্ষ মুখোমুখি হয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে পুলিশ ও কলেজ শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, কলেজের একটি ভবনে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতির নিচে লেখা ছিল ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। পরবর্তীতে সেখানে একদল শিক্ষার্থী ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ লিখে দেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এরই জেরে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ।
সংঘর্ষের বিষয়ে কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল সিদ্দিকী রনি বলেন, ‘গ্রাফিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা লিখেছে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধ। শিবিরের ছেলেপেলেরা এটা নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গালিগালাজ করেছে। পরে তারা ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি মীমাংসা না করে শিক্ষকদের সামনে আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। আমাদের কিছু নেতা তাদের উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় বিচার চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কলেজ ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা করেছে। আদর্শিকভাবে দেউলিয়া ছাত্রদল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আদর্শিক লড়াইয়ের পরিবর্তে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।
সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহামেদ বলেন, ‘গ্রাফিতির একটি লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।’
তিনি জানান, এতে দুই-তিনজন আহত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ক্যাম্পাস স্বাভাবিক আছে এবং ক্লাস-পরীক্ষা চলছে। বিষয়টি সমাধানে বসা হবে বলেও জানান তিনি।


