গুলশানে প্রস্তুত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির ফ্ল্যাট

গুলশানে প্রস্তুত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির ফ্ল্যাট
Advertisement
Advertisement

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার আগেই সংস্কার হয়েছে তার গুলশানের বাসা। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বঙ্গভবন থেকে লোকজন এসে বাসার সংস্কার কাজ করে গেছেন। তবে বাসার বিশেষ  নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এখনো কোনো নির্দেশনা পায়নি পুলিশ।

গুলশান ১ নম্বরের ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর হোল্ডিংয়ে গ্রিন ভিলা ভবনের ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাটে উঠবেন সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

দু-এক দিনের মধ্যে যেকোন সময় বঙ্গভবন ছেড়ে তিনি এই ভবনে উঠবেন এমন খবরে গুলশানের এই ভবন ঘিরে গত কয়েকদিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা তৎপরতায় আশপাশের বাসিন্দরা অনুমান করছিলেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে। কিন্তু কবে তিনি উঠবেন তা কারো সুনির্দিষ্ট করে জানা নেই।

পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোহাম্মদ সাগর হোসেন জানিয়েছেন, ‘রবি-সোমবারের মধ্যে পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুলশানের ফ্ল্যাটে উঠবেন। তিনি এখনো বঙ্গভবনে আছেন।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানায় ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান শনিবার দুপুরে টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি গুলশানের বাসভবনে উঠবেন এজন্য নিরাপত্তার কোন নির্দেশনা তারা পাননি। শুনেছেন কয়েকদিন পরে উঠবেন। তবে, পুলিশ সেদিকে খেয়াল রাখছে।

নিরাপত্তার ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির ডিসি (প্রটেকশন) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসাবে তিনি এক ধরনের নিরাপত্তা পাবেন। কিন্তু গুলশানের কোনো বাসায় নিরাপত্তা দেওয়ার কোন নির্দেশনা এখনো তারা পাননি।

আরও পড়ুন

গুলশান ১ নম্বর থেকে গুলশান ২ নম্বরের দিকে যেতে প্রথম ইউটার্ন নিতেই হাতের বাম পাশের সড়ক ধরে ২০০ গজ সামনে গেলেই গ্রিন ভিলা ভবন। ছয়তলা ভবনের নিচতলা পার্কিং। ছয় তলার চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে দুটির মালিক মো. সাহাবুদ্দিন।

তিনি স্ত্রীসহ ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাটে ও তার ছেলে আরশাদ আদনান স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে ৫০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে  থাকেন। অপর দুই ফ্ল্যাটের একটি এক কানাডা প্রবাসী, অপরটি এক দূতাবাস কর্মকর্তার।

ভবনের প্রধান নিরাপত্তাকর্মী মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বঙ্গভবন থেকে লোকজন এসে ফ্ল্যাটটির সংস্কার কাজ করেছেন। এক সপ্তাহ আগেও স্ত্রীসহ বাসাটি দেখতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। তারা ২-৩ মাস পরপরই এখানে আসতেন। সকালে এলে রাত ৮টার আগে চলে যেতেন।’

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন সকালে নিয়মিত হাঁটতে বের হতেন। হাঁটার সময় বিপ্লব ও শহিদুল নামে দুজন তার সঙ্গে যেতেন। প্রতিদিন ১১টি পত্রিকা পড়তেন।

ভবনের একাধিক বাসিন্দা জানান, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে এই ভবনে তিন শিফটে এসবির একজন করে সদস্য নিচতলায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শুক্রবার ছুটির দিনে বিকাল ৪টার দিকে মো. সাহাবুদ্দিনের ফ্ল্যাটে টেলিফোন সংযোগ লাগাতে আসেন বিটিসিএলের কর্মচারী আবদুর রাজ্জাকসহ দুইজন। রাজ্জাক জানান, ফ্ল্যাটটিতে টেলিফোনের নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad