চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে অ্যাপ্রোন আর স্টেথোস্কোপ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেছিলেন এক তরুণী, তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রী কমনরুম থেকে মনিকা আক্তার মিতু (৩২) নামের ওই ‘ভুয়া’ শিক্ষার্থীকে আটক করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটক মিতু জানান, তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়িতে এবং বর্তমানে তিনি লালবাগের পোস্তা এলাকায় স্বামী রফিকুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে বসবাস করেন। এসএসসি পাসের পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও চিকিৎসক হওয়ার তীব্র ইচ্ছা থেকে তিনি গত এক মাস ধরে মেডিকেলে আসা-যাওয়া শুরু করেন। তবে কখনো ক্লাসরুমে ঢোকার সুযোগ পাননি তিনি। নীলক্ষেত থেকে ‘নুপুর ইসলাম জান্নাত’ নামে একটি ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে তিনি নিজেকে মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করতেন। মূলত তিনি একজন টিকটকার এবং নিয়মিত ভিডিও তৈরি করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, গত এক মাস ধরে ওই তরুণীকে নিয়মিত ছাত্রী কমনরুমে দেখা যাচ্ছিল। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মঙ্গলবার কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং পরে পুলিশ ডেকে তাকে সোপর্দ করা হয়। আটকের সময় তার কাছ থেকে একটি অ্যাপ্রোন, একটি স্টেথোস্কোপ এবং জালিয়াতি করা পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীকে হেফাজতে নেয়। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


