১৯৭১ সালের ৭ মার্চ দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ মাইকে প্রচার করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান তিন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।
গত ৭ মার্চ ওই ভাষণ প্রচারের পর শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি, মো আসিফ আহমেদ সৈকত, আব্দুল আল মামুনকে আটক করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
একই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া চার জন নাগরিককেও আটক করে একই আইনে গ্রেপ্তার করাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এইচআরএফবি।
এসব ঘটনা তদন্ত করার পাশাপাশি নাগরিকদের ওপর হামলা করতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং অধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এইচআরএফবি মনে করে, ‘দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে স্বীকৃত কোনো ভাষণ বা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণকে নিষিদ্ধ করার কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ইতিহাস স্মরণ, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতার অংশ।’
সংস্থাটির মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষা করা। কোনোভাবেই যেন আইন প্রয়োগ, সামাজিক চাপ বা অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতার বলয়ে মৌলিক অধিকার সংকুচিত না হয়।
এইচআরএফবি ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার ও শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত করার এবং সন্ত্রাস দমন আইনে গ্রেপ্তারকৃত নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


