একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসআইবিএল) নতুন বিতর্কে পড়েছে ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও স্পন্সর পরিচালক মো. রেজাউল হকের পদত্যাগের পর।
রোববার সকাল ১১টায় তিনি পদত্যাগ করেন। অভিযোগ করেন যে, ব্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উদ্যোক্তাদের অবমূল্যায়নের মধ্যে রয়েছে।
রেজাউল হক টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ব্যাংকের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদে কমপক্ষে পাঁচজন পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পর্ষদ আর কার্যকর নয়।’
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী টাইমসকে বলেন, ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন যে কোনো মেমোরেন্ডাম বা অভ্যন্তরীণ নীতিমালার ওপরে কার্যকর। আইনে কোথাও বলা নেই, ন্যূনতম কতজন পরিচালক থাকতে হবে। তাই পর্ষদ বাতিল হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
চিঠিতে রেজাউল হক লিখেছেন, তিনি ২০০২ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই সময়ে ব্যাংকের সার্বিক শৃঙ্খলা ও সততা বজায় রেখে লভ্যাংশ প্রদানসহ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন। কিন্তু ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় সংস্থার সহায়তায় অস্ত্রের মুখে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়, অভিযোগ করেছেন তিনি।
এর পর, চিঠি অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপ কর্তৃক রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় ব্যাংকটি দখল করা হয়। রেজাউল হকের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়।
রেজাউল হক লিখেছেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তারা আশা করেছিলাম, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলমের নিয়ন্ত্রিত পর্ষদ বাতিল করে ব্যাংকের প্রকৃত উদ্যোক্তা ও শেয়ারহোল্ডারদের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বরং স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে, যা একটি অকার্যকর সিদ্ধান্ত।’
তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র পরিচালকদের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যাংকের সাথে কোনো আর্থিক স্বার্থ থাকার কথা নয়, কিন্তু তাদের নিয়েই পর্ষদ গঠন করায় ব্যাংকটি দীর্ঘ এক বছরেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।’
রেজাউল হকের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পরও ব্যাংকের অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং এর দায় বর্তমান পর্ষদ ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার ওপর বর্তায়।
চিঠিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘স্বতন্ত্র পরিচালকরা বিগত এক বছর ধরে কার্যত কোনো প্রশাসনিক বা নীতিনির্ধারণী অগ্রগতি আনতে পারেননি, বরং দৈনন্দিন অফিসে উপস্থিতি ও বেতন–ভাতা নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক যখন মার্জারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়, তখন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের সেই আলোচনায় ডাকা হয়নি, অথচ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে তাদের বাদ দিয়েই।’
রেজাউল হকের বক্তব্যে বলা হয়, ‘ব্যাংকের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ দেওয়ায় সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। আমি আর এই অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। ব্যাংকের স্বার্থ ক্ষুন্ন হওয়ায় ও আমানতকারী, শেয়ারহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়ায় আমি পদত্যাগ করছি।’


