দেশের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিলের’ খাবার বিতরণের এলাকাভিত্তিক সরবরাহ প্রক্রিয়া বিভাজন করে সাতদিনের মধ্যে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা এবং তা সুষ্ঠুভাবে বিতরণের আহ্বান জানান তিনি।
রোববার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘ফিডিং কর্মসূচি’র সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিশুদের পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিতের বিষয়টি কাছে সবার আগে গুরুত্ব পাবে। শিশুদের খাবারের বিষয়ে কাউকে কোনো কিছুতে ছাড় দেবে না সরকার। প্রতিটি ধাপে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।’
‘শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ১৫১টি উপজেলায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পাইলট প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে’ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই অর্থ আমাদের জাতীয় বাজেটের এক শতাংশ। এই বাজেট একটি মেট্রোরেল তৈরির বাজেটের সমান। দেশের ১৯টি কোম্পানি এই কাজে যুক্ত আছে।’
প্রজেক্টের ঠিকাদারদের সতর্ক করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘ফরিদপুরের একজন কাজ নিয়েছেন ময়মনসিংহের স্কুলে খাবার সরবরাহের। এখন তারা দূরত্বের অজুহাত দিচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে কাজ না করতে পারলে কাজ ছেড়ে দেন। যারা পারবে তারা করবে।’
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমানো এবং স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে দুপুরে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের উদ্যোগ দিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৫১ উপজেলার প্রায় ২০ হাজার বিদ্যালয়ে সেদ্ধ ডিম, বনরুটি, ফার্টিফায়েড বিস্কুট, পাকা কলা, ইউএইচটি দুধ জাতীয় খাবারের দুটি করে আইটেম বিতরণ করা হচ্ছে।
তবে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার বিতরণ এবং অনেক স্থানে এসব খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগে খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতের করণীয় ঠিক করতে এই মত বিনিময় সভার আয়োজন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আগামী বছর থেকে পুরোদমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়েই ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে এবং তার আগেই এসব সমস্যার সমাধান করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েল সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মোখলেছুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ অনেকে।


