পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম, ক্রসফায়ার ও জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির তিন হাজার ২৯৯ নেতাকর্মী ও সমর্থক নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত ও বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খান।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় টাইমস অব বাংলাদেশকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবেদনে তিন সহস্রাধিক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় তদন্ত ও বিচার চাওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহ উদ্দিন খান সোমবার চিফ প্রসিকিউটরের কাছে তিনটি আবেদন জমা দেন। তিনি দলের পক্ষে মামলা, গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষক সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছেন।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর বরাবরও এসব অভিযোগ করা হয়েছিল। কাজেই একবার অভিযোগ জমা হলে আবার দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।’
‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই বাছাই করে এ সংক্রান্ত বিষয়ে পদক্ষেপ নেব। এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় তদন্ত চলছে।’
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির একটি আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে দুই হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭৭৬ জনই বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এসব হত্যার বিচারের জন্য গত বছরের ৮ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় আবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৭৫ জনকে গুম করার ঘটনায় বিচার চেয়ে গত বছরের ২৪ আগস্ট আবেদন করা হয়েছিল। সেখানে ভুক্তভোগীদের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সালাহ উদ্দিন খান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত ন্যায়বিচার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এ ব্যাপারে বিচার নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের নথিপত্র আবারও ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় আবেদনে বিএনপি বলেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ সরকারের ‘সন্ত্রাসী বাহিনীর’ গুলিতে ৮৪৮ জন শহীদ হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রদলের ১৫৩ জন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩৭৩ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক রয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছিল।
প্রতিটি আবেদনেই দ্রুত পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরকে আবারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।


