দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টার চেষ্টাতেও উদ্ধার হয়নি রাজশাহীতে অসাবধানতাবশত পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপের পাইপে আটকে পড়া দুই বছরের শিশু সাজিদ। তাকে উদ্ধারে টানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয়রা।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে তিনটি এস্কেভেটর দিয়ে গর্তের পাশের মাটি খনন করা হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট। উদ্ধার তৎপরতা দেখতে কয়েক হাজার মানুষ সারারাত নির্ঘুম রাত কাটান মাঠে। শিশুটিকে উদ্ধারে ৩০ ফুট গভীর গর্তে কয়েক দফা ক্যামেরা পাঠিয়েও দেখা যায়নি। ওপর থেকে পড়া মাটি ও খড়ের কারণে শিশুটিকে দেখতে পাননি তারা।
স্থানীয়রা জানান, জমির মালিক কছির উদ্দিন বছরখানেক আগে জমিতে সেচের জন্য একটি সেমিডিপ নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেন। সেসময় ৩৫ ফুট খনন করার পরও পানি না পেয়ে আর নলকূপ বসাননি। এরপর একবছর ধরে ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গর্তটি সেভাবেই পড়ে রয়েছে।
সেই গর্তেই বুধবার দুপুর ১টার দিকে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে চেষ্টা চলছিল।

গর্তে পড়া শিশু মো. সাজিদের বাবার নাম রাকিবুল ইসলাম। তারা কোয়েলহাট গ্রামের বাসিন্দা। রাকিবুল ইসলাম ঢাকায় একটি গুদামের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন।
শিশু সাজিদের উদ্ধার তৎপরতা দেখতে ঘটনাস্থলে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ। সেখানে চুপ করে বসে আছেন সাজিদের মা রুনা খাতুন। তিনি জানান, তার তিন ছেলে। এরমধ্যে দুই বছরের সাজিদ মেজ। ছোট ছেলে সাদমানকে কোলে নিয়ে আর সাজিদের হাত ধরে ওই পথে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত সাজিদ গর্তে পড়ে যায়।
রুনা বলেন, ‘আমি সামনে হাঁটছিলাম, আর সাজিদ পেছনে। একটু পর পেছনে ঘুরে দেখি, সাজিদ নাই। শুধু মা মা ডাক শুনতে পাচ্ছি।’
‘গর্তের মুখে খড় দেওয়া ছিল। তাই গর্ত ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছিল না’ বলেও জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহীর সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম এর আগে রাতে জানিয়েছিলেন, শিশুটি জীবিত আছে বলে মনে হচ্ছে। তাকে অক্ষত উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান জানান, শিশুর গর্তে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। শিশটির জন্য সবার দোয়া চান তিনি।


