প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, জাতি হিসেবে এমন একটি বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাতে হবে, যা সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের কেবল যোগ্যতা থাকলেই চলবে না, বরং সমাজে মর্যাদা, কর্মনীতি ও সততার উচ্চ মানও বজায় রাখতে হবে। বিচার বিভাগকে শুধু আইনের শাসনের প্রতিই দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচার বিভাগের সংস্কার প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের মধ্য থেকে উদ্ভূত হয়ে ন্যায়বিচারের জন্য জনগণের স্থায়ী ও অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বৈরাচার, নিপীড়ন ও অন্যায় থেকে জনগণকে রক্ষা করেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই দিনটি যেন আমাদের বিচারিক আচরণের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে এবং প্রান্তিক ও নিপীড়িত মানুষের কাছে পৌঁছাতে অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আমন্ত্রিত অতিথি, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ সংবিধানের অধীনে ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের যাত্রা শুরু হয়। এ দিনটিকে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ফুল কোর্ট সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


