ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার রাতে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ লাদাখ অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অবশেষে আমি অনশন ভেঙেছি। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে এসে কিংবা চিঠির মাধ্যমে আমাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান। মূলত বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত।’
এ সিদ্ধান্তের আগে দিনভর সরকারের উচ্চপর্যায়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র হয়ে ওঠা এবং ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টার বৈঠক করেন।
সূত্রগুলোর দাবি, ওই বৈঠকে ওয়াংচুকের উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তার স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
অমিত শাহর নির্দেশে জিতেন্দ্র সিং ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর সঙ্গে কথা বলেন এবং আন্দোলনকারীর উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আশ্বাস দেন। তিনি ওয়াংচুককে অনশন ভাঙাতে রাজি করানোর অনুরোধও জানান।
পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং মেদান্তা হাসপাতালে গিয়ে ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সরকারের অঙ্গীকারনামা তার হাতে তুলে দেন। ওয়াংচুক, তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এবং অন্যদের উপস্থিতিতে সরকারের আশ্বাসগুলো পড়ে শোনান জেপি নাড্ডা।
তারা জানান, আলোচনার অংশ হিসেবে শুক্রবার নিরপেক্ষ একটি স্থানে সিজেপি প্রতিনিধিদলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াংচুককে আরও জানানো হয় যে, কর্মী ও প্রশিক্ষণ বিভাগের (ডিওপিটি) আওতায় একটি নতুন বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিলটি শুক্রবার মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়াসহ অন্যান্য দাবির বিষয়েও সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কিংবা ২০ জুলাই ২০২৬ সংসদ অভিমুখে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক।’
নাড্ডা আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনা করার আশ্বাস সরকার আগেই দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নপত্র ফাসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।’
ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘আমি সোনমজিকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত জীবনযাপন শুরু করে দ্রুত শারীরিক ওজন ফিরে পাওয়ার আহ্বান জানাই। সর্বশক্তিমানের কাছে তার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।’
অনশন ভাঙার পর ওয়াংচুক জানান, তিনি লাদাখে ফিরে যেতে চান।
সূত্রগুলোর দাবি, লাদাখে ফেরার আগে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি তাদের সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রাখতে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের যেন কোনো ‘অসামাজিক গোষ্ঠী’ প্রভাবিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করবেন।
এ ছাড়া সরকারকেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সংলাপ প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনার পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবেন এবং আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাবেন।


