আর্থিক খাতের সংস্কারের অগ্রগতি ও নতুন রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এপ্রিলের মূল্যায়ন মিশনের পর আগামী জুলাই নাগাদ ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ প্রতিনিধিদল। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির বাংলাদেশ মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাকসিম ক্রিসকো।
বৈঠক শেষে পাপাজর্জিও সাংবাদিকদের বলেন, আগামী এপ্রিলে আইএমএফের স্প্রিং মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। এর পরপরই একটি রিভিউ মিশন বাংলাদেশে আসবে। এই মিশন সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কারের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের বাস্তব চিত্র মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আইএমএফ বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এর আগের দিন গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন নতুন সরকারের অধীনে আর্থিক খাত সংস্কারের একটি হালনাগাদ রোডম্যাপ চান। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকও সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা তৈরিতে সম্মত হলে এর কাঠামো ও বাস্তবায়নের ধাপ নির্ধারণে ঢাকায় আসেন মিশন প্রধান।
বুধবারের বৈঠকে আইএমএফ বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও পুরো প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও সময়সীমাবদ্ধ করার ওপর জোর দেয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্ট সংস্কারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি উপস্থাপন করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, আইএমএফ রিজার্ভ বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার এবং আর্থিক খাত সংস্কারে অগ্রগতিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছে।
তিনি বলেন, তারা একটি সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ লিখিতভাবে চেয়েছে, যার কাজ শুরু হয়েছে। স্প্রিং মিটিংয়ের পর রিভিউ মিশনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের সিদ্ধান্ত হবে।
আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ২০২৩ সালের শুরুতে আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ, যা পরে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে দেশ, বাকি রয়েছে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম কিস্তিতে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের জুনে তৃতীয় কিস্তির ১১৫ কোটি ডলার ছাড় হয়। পরে শর্ত পূরণে দেরি হওয়ায় সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি মিলিয়ে ১৩৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার পায় বাংলাদেশ।
গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের কথা থাকলেও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার শর্তে তা স্থগিত রাখে আইএমএফ। এখন নতুন সরকারের সঙ্গে সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারলে আগামী জুলাই নাগাদ ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড় হতে পারে।


