রাজশাহী মহানগরীর মোল্লাপাড়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে থাকা ভিন্ন ভাষাভাষির পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
রোববার সকাল ১০টায় মহানগরীর ২ নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ার পাহাড়িয়া গ্রাম পরিদর্শন করেন নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদল জানায়, পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের ভিটেমাটি রক্ষার লড়াইয়ের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন তারা।
পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় ভূমির দলিল সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর আবাসনের ব্যবস্থা করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, পাহাড়িয়াদের উচ্ছেদ বন্ধে সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ভূমিদস্যু সাজ্জাদ আলীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন- সাংবাদিক ও কবি সোহরাব হাসান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নিবার্হী জাকির হোসেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি জামাত খান, ব্লাস্ট-প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধি মো. মিনহাজুল কাদির।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের এই মহল্লার ১৬ কাঠা জমিতে ৫৩ বছর আগে বাড়ি করার সুযোগ পান মালপাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর ছয় পরিবার। ধীরে ধীরে সেখানে বাড়ি বেড়ে দাঁড়ায় ১৬টিতে। সম্প্রতি সাজ্জাদ আলী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি দাবি করেন, ১৯৯৪ সালে তিনি এ জমি কিনেছেন। দখলে নেওয়ার কথা বলে ভয় দেখিয়ে পাহাড়িয়াদের ১৬ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা দেন তিনি। তারপর তিনটি পরিবার সেখান থেকে চলে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসন ও নাগরিক সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।


