গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ থেকে বহিষ্কৃত চিকিৎসক, মানবাধিকারকর্মী, স্বেচ্ছাসেবকরা আটক হওয়ার সময় ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা নানা ‘নির্যাতনের’ অভিযোগ করেছেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ফ্লোটিলার প্রায় সাড়ে চারশ’ জন অংশগ্রহণকারী স্থানীয় সময় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হন। তাদের একজন ইতালীয় কর্মী চেজারে টফানি রোববার রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে ফিরে এসে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে “ভয়াবহ আচরণ” করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পর পুলিশ আমাদের ধরে, সেখানে বারবার “হেনস্থা” করা হয়।’
আরেকজন মানবাধিকারকর্মী লোরেঞ্জো ডি’আগোস্টিনো বলেন, ‘আমার মালপত্র ও টাকা চুরি হয়ে গেছে।’ তার অভিযোগ, ‘কুকুর দিয়ে ও বন্দুকের “লেজার সাইট” তাক করে আমাদের ভয় দেখানো হয়।’
মালয়েশিয়ান গায়িকা হেলিজা হেলমি এবং তার বোন হ্যাজওয়ানি হেলমি দাবি করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ‘টয়লেটের পানি খেতে বাধ্য’ করেন। তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে ইসরায়েলি সেনারা বলেছিল, “তারা যদি না মরে, তবে সেটা আমাদের সমস্যা নয়।’

ইতালীয় ইসলামী সম্প্রদায়গুলোর ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াসিন লাফরাম মিলান মালপেনসা বিমানবন্দরে ফিরে বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে “হিংস্র আচরণ” করেছে, অস্ত্রের দিকে তাক করে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য একদমই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ইতালীয় সাংবাদিক সেভেরিও টমাসি বলেন, ‘ইসরায়েলি সেনারা তাদের ওষুধ আটকে রাখে এবং ‘বানরের মতো’ আচরণ করেছে।’ তিনি জানান, সেনারা আটক কর্মীদের উপহাস করেছে।
আরেক কর্মী পাওলো ডি মন্টিস জানান, তাকে কয়েক ঘণ্টা একটি ভ্যানে হাত বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে মানসিকভাবে অত্যাচার করেন। বলেন, ‘আমাদেরকে চার ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে থাকতে বলা হয়েছিল।’
বহিষ্কৃত কর্মীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মিশনের সদস্য থুনবার্গের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন। তারা জানান, থুনবার্গকে ‘টেনে হিঁচড়ে’ নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ‘ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খেতে বাধ্য’ করা হয়।
এসব অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।


