প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নারীদের জন্য এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে রান্নার কষ্ট কমে এবং দৈনন্দিন জীবন সহজ হয়।
সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের এগিয়ে নিতে শিক্ষা খাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হবে। পাশাপাশি যারা ভালো ফল করবে, তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তারা উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে,’—বলেন তিনি।
তারেক রহমান জানান, উলসী খালে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। তিনি বলেন, খালে পানি থাকলে মা-বোনেরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয় করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া খাল খনন কর্মসূচি আবার শুরু করব। ইনশাআল্লাহ, আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের চেষ্টা করব।’
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। আমরা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছি। সেই সনদের প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি ও দল গণঅভ্যুত্থানের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। ১৭৩ দিন হরতাল করে যারা অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, সেই ভূত এখন আবার অন্য কারো কাঁধে আছর করেছে। এদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কোদাল হাতে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শার্শায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ঠিক একই স্থানে দাঁড়িয়ে সেই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান।


