ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রভাষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে বিশেষ অনুমোদনে নিয়োগ কার্ড পাচ্ছেন এক প্রার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর দেওয়া এই অনুমোদনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
আগামী বুধবার এ বিভাগের নিয়োগ বোর্ড বসার কথা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া প্রার্থী হলেন এস এম তাজউদ্দিন, যিনি বর্তমানে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
জানা গেছে, প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩ দশমিক ৫০ থাকা বাধ্যতামূলক। তবে সনাতন পদ্ধতির ক্ষেত্রে উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে বলে শর্ত দেওয়া হয়।
এ ছাড়া, এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় শ্রেণির শর্ত ব্যতীত যেকোনো একটি শর্ত শিথিলযোগ্য বলে নির্দেশনা দেয় প্রশাসন।
প্রার্থী তাজউদ্দিন বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশে আগেই বাদ পড়েন। বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ পত্রে সুপারিশকৃত নয় উল্লেখ করে বলা হয়েছে প্রার্থীর এমবিএ রেজাল্ট সিজিপিএ ৩ দশমিক ২১, যা আবেদনের যোগ্যতার নূন্যতম সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকার শর্ত পূরণ করে না।
দ্বিতীয়ত, তার অপর এমবিএ অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে অর্জিত। তৃতীয়ত, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ থেকে অর্জিত প্রার্থীর বিবিএ রেজাল্ট শর্ত পূরণ করে না (দ্বিতীয় শ্রেণি)।
এ অবস্থায় তার পিএইচডি থাকায় একটি শর্ত শিথিল হলেও অন্যান্য শর্ত শিথিল হয়নি।
নিয়োগ পরীক্ষার কার্ড ইস্যু না হওয়ায় তাজউদ্দিন পরবর্তীতে প্রশাসনের কাছে তিনি কার্ড ইস্যু করার জন্য আবেদন করেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ অক্টোবর তার নামে কার্ড ইস্যু করা হবে কিনা সদয় পরবর্তী নির্দেশনার জন্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে মার্ক করে একটি নোট ছাড়েন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন (উপ-রেজিস্ট্রর)।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মনজুরুল হক পরবর্তী নির্দেশনার জন্য উপাচার্যের কাছে নোটটি পেশ করেন৷
সবশেষ গত ২৭ অক্টোবর নোটে সই করে অনুমোদন দেন অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
কিন্তু তার আবেদন বাতিলের কারণ নোটে ব্যাখ্যা করা থাকলেও ঠিক কোন কারণে বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশকে স্থগিত করে তাজউদ্দিনের নামে কার্ড ইস্যু করার অনুমোদন দেওয়া হলো তার কোনো ব্যাখ্যা নেই সেখানে।
আর সুপারিশ বাতিলকৃত প্রার্থীর কার্ড অনুমোদনের বিষয়ে জানেন না বিভাগের সভাপতি নিজেও। রহস্যজনকভাবে দেওয়া এই অনুমোদন ঘিরে নানান প্রশ্নের জন্ম হয়েছে।
এসব বিষয়ে বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘প্ল্যানিং কমিটিতে আমরা প্রতিটি আবেদন সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করে যেসব আবেদনে ত্রুটি ছিল, সেগুলোর পাশে ব্যাখ্যা উল্লেখ করে দিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে কয়েকজন প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এটা নিশ্চিত যে উক্ত প্রার্থীর আবেদন প্ল্যানিং কমিটিতে বাতিল হয়েছিল। তবে উপাচার্য মহোদয়ের অনুমোদনের কপি আমরা পাইনি।’
‘সোমবার রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে একটি চিঠি দিয়ে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর বাইরে এই বিষয়ে আমার জানা নেই’ যোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান তার একান্ত সচিব গোলাম মাহফুজ মঞ্জু।


