আজ থেকে সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

আজ থেকে সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

১০ মাস স্থগিত থাকার পর কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। রোববার থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পরিবেশগত কঠোর নির্দেশনার অধীনে সীমিত আকারে রাতযাপনের অনুমোদন দেওয়ায় আবারও জাহাজ চলাচলের পথ খুলে দেওয়া হয়।

আপাতত কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে দ্বীপে যাতায়াতের জন্য চারটি জাহাজকে অনুমোদন দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জাহাজগুলো প্রতিদিন সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে ছেড়ে যাবে এবং পরদিন বিকেল ৩টায় সেন্ট মার্টিন থেকে ফেরত আসবে।

ভ্রমণকারীদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে সেন্ট মার্টিনের ভ্রমণ পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোডবিহীন টিকিট অবৈধ বিবেচিত হবে।

জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, প্রথম দিনের যাত্রার জন্য এরইমধ্যে ১৫শ’র বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। পর্যটক যাতায়াত চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটককে দ্বীপে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হবে এবং দ্বীপের নাজুক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে তা সকল পর্যটককে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

এর আগে ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য খুলে দেয় সরকার। তবে সে সময় দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি ছিল না। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলও বন্ধ ছিল।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, এ মৌসুমের প্রথম যাত্রার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

মৌসুমে অন্তত চার মাস দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি দিলে পর্যটন শিল্প আরও লাভবান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে দ্বীপে পর্যটকদের ফিরে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে তুমুল উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দ্বীপের স্থানীয়দের জীবিকা মূলত পর্যটননির্ভর। সেন্ট মার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপ ঘিরে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও স্থানীয়রা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আগ্রহী। পর্যটন আমাদের প্রধান জীবিকার একটি উৎস। যত বাধাই থাকুক, এখানকার মানুষ সর্বোচ্চ আতিথেয়তা দেখাবে।’

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেন্ট মার্টিনে পর্যটকের রাতযাপন শুরু হলেও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে পর্যটকের সংখ্যা এবং ভ্রমণ সময় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সরকার ঘোষিত নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- রাতে সমুদ্রসৈকতে আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ আয়োজন, কেয়া বনাঞ্চলে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি, এবং সামুদ্রিক প্রাণী যেমন- কচ্ছপ, পাখি, প্রবাল, কাঁকড়া, শাঁসসহ অন্যান্য প্রজাতিকে বিরক্ত করা নিষিদ্ধ।

এছাড়া মোটরসাইকেল, সিবাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যানবাহন সৈকতে নিষিদ্ধ থাকবে। পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, ছোট সাবান/শ্যাম্পুর প্যাকেট, ছোট প্লাস্টিক বোতলসহ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারেও পর্যটক এবং স্থানীয়দের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

পর্যটকদের প্লাস্টিক বোতলের পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির ফ্লাস্ক বহন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপ একটি জাতীয় সম্পদ। পর্যটকদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই পর্যটনে সহায়তার জন্য আমরা পর্যটকদের সহযোগিতা আশা করি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad