টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছাড়তে শুরু করেছে কার্পজাতীয় মা মাছ।
বৃহস্পতিবার সকাল ও দুপুরে নদীর গড়দুয়ারা, আজিমের ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও কাগতিয়া এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডিম পাওয়ার খবর জানিয়েছেন সংগ্রহকারীরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভোর থেকেই নদীতে নৌকা নামিয়ে ডিম সংগ্রহে নেমেছেন জেলেরা। কোথাও কোথাও একশ থেকে আড়াইশ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাওয়া গেছে। গড়দুয়ারার নয়াহাট এলাকায় দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০টির মতো নৌকা নমুনা ডিমের খোঁজে নদীতে অবস্থান করছিল।
হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শওকত আলী বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর গত দুই দিন ধরে হালদায় পাহাড়ি ঢল নেমেছে। এর প্রভাবে গত রাতে খুব অল্প পরিমাণে মা মাছ ডিম ছাড়ে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে নমুনা ডিম মিলছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সন্ধ্যার পর ভাটার সময় ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা বেশি।’
প্রাকৃতিক নিয়মে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুন পর্যন্ত বজ্রসহ বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথি মিললে হালদায় ডিম ছাড়ে রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউশসহ কার্পজাতীয় মা মাছ।

জোয়ার-ভাটার নির্দিষ্ট সময়ে ছাড়া এই নিষিক্ত ডিম বিশেষ জাল দিয়ে সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো হ্যাচারিতে নিয়ে রেণু পোনা উৎপাদন করা হয়, যা দেশের মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা বিশেষজ্ঞ মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘গত দুই দিন হালদায় ঢল ছিল। সকাল থেকে আজিমের ঘাট ও মাছুয়া ঘোনাসহ কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম মিলেছে। এখন জোয়ার শেষ হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ভাটার সময় মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে বলে আশা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘হালদা পাড়ের সংগ্রহকারীরা এর মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। হ্যাচারিগুলোও ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুত আছে।’
অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে ডিম সংগ্রহের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিবছর এই সময়টিতে হালদা নদী ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে ডিম সংগ্রহের পাশাপাশি নদীর পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


