জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আজগর আলীর দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন যুক্তি উপস্থাপন করে; যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে, যে কোনোভাবে আন্দোলন দমন করতে হবে। এই বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে প্রসিকিউশন যুক্তি উপস্থাপন করেছে। আগামী ৩ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। সেদিন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। প্রথম দিনের যুক্তিতর্কে আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে দাবি করে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে এসব ঘটনা পরিকল্পিত ও সমন্বিত হামলার অংশ বলেও ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়।
এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় হানিফসহ চারজন আসামি। চার আসামিই পলাতক। এ মামলার অন্য তিন আসামি হলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আন্দোলন দমনের জন্য ছাত্রলীগ যথেষ্ট-ওবায়দুল কাদেরের এমন মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে একমত পোষণ করা, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি মিটিং করে ছাত্র জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয়জন হত্যার শিকার হন। একই সঙ্গে আহত হন বেশ কয়েকজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাহবুব আলম হানিফসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। গত বছরের ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। গত বছরের ২ নভেম্বর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়।


