দেশের হাম পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের দিকে যাচ্ছে এবং সংক্রমণের প্রবণতা কমছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রোববার ঢাকায় নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় শিশুদের হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করেই হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ আকারে দেখা দেয়। কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে এখন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’
তিনি জানান, গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮ জেলায় ৩০ উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এবার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে পারলে হামের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে। এজন্য সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘অলিগলি থেকে শুরু করে প্রতিটি এলাকায় এই কর্মসূচি জনপ্রিয় করতে হবে, যাতে একটি শিশুও বাদ না পড়ে।’
বক্তব্যে আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুম নিয়েও সতর্ক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন থেকেই মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বাসাবাড়িতে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, টায়ার, নারিকেলের খোসা, পুরোনো পাত্র, নালা বা অন্য যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। শুধু সরকারের পক্ষে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব নয়, এজন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
মন্ত্রী মশকনিধন কার্যক্রমে ওষুধের মান ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্ধারিত মাত্রায় ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করা হলে উড়ন্ত মশা ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি ভবিষ্যতেও টিকাদান কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


