দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্য হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৮২৬ জনের শরীরে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ দেখা গেছে এবং ল্যাবরেটরিতে ৫১ জনের শরীরে নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৭ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৮৮৫ জন।
এই আড়াই মাসে সন্দেহজনক হামে ৪৭৭ জন এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে ৮৮ জন মারা গেছে। সব মিলিয়ে দেশে হামজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬৫ জনে। অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ঢাকা বিভাগে হামের প্রকোপ ও প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫৪ হাজার ১৮২ জন হাম রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৭১৯ জন। অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা শেষে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৫০ হাজার ৯২৬ জন।
বিভাগভিত্তিক আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৬ জন, সিলেটে ৫৮, বরিশালে ৫৫, চট্টগ্রামে ৫৪, ময়মনসিংহে ৪৪, খুলনায় ২১ এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন শিশু মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃতদের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের, একজন সিলেটের এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিল।
হামের এই প্রাদুর্ভাব রুখতে দেশজুড়ে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬ জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই ও সার্ভিল্যান্স শাখার তথ্য অনুসারে, বিভাগীয় পর্যায়ে দেশজুড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০২ শতাংশ বেশি।
একইভাবে দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সিটিগুলোতে মোট ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন শিশুর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০ লাখ ১৮ হাজার 6৭১ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মূল লক্ষ্যমাত্রার ১০৬ শতাংশ।
সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গাজীপুরে সর্বোচ্চ ১১৩ শতাংশ কাভারেজ অর্জিত হয়েছে এবং রংপুর সিটিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম (৯৮ শতাংশ) কাভারেজ রেকর্ড করা হয়েছে।


