ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সালের বন্ধু কবিরকে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর ফয়সাল আহমেদ কবিরের সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
এর আগে ১৬ ডিসেম্বর হাদিকে হত্যা চেষ্টা মামলায় কবিরকে সাতদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত। হাদিকে গুলি করার ঘটনায় কবিরকে গত ১৫ ডিসেম্বর বিকালে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এদিন শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, ‘কবির মোটরসাইকেলের মালিক এবং মূল আসামি ফয়সালের বন্ধু। আসামি এ হত্যাকাণ্ডের অনেক তথ্য এখনো গোপন রেখেছে। এজন্য তাকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করছি।’
এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড শুনানিতে বলেন, আসামি কবির মূল আসামি ফয়সালের সাথে কয়েকবার হাদির কালচারাল সেন্টারে গিয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলর মালিক এই কবির। তার এনআইডি দিয়েই কেনা।
আসামির সঙ্গে মূল আসামি ফয়সালের হাদির কালচারাল সেন্টারের অনেক ছবি প্রমাণ করে এ আসামি ফয়সালের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এবং হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল তথ্য তার জানা।
তিনি আরও বলেন, ‘মূল আসামির সম্পর্কে বিভিন্ন দিকে বলা হচ্ছে সে দেশের বাহিরে যায়নি। সুতরাং তার বাহিরে থাকা বা ভেতরে থাকা দুটো বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত হচ্ছে। তাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কাড়া জড়িত তা বের করতে আসামির সাত দিনের রিমান্ড চাই।তাকে রিমান্ডে পাঠালে হত্যার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে সেটিও বের হবে বলে আশা করছি।’
রিমান্ড আবদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, কবির হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। প্রথম সাত দিনের রিমান্ডে কবির হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছু তথ্য দিলেও অধিকাংশ বিষয় এড়িয়ে গেছে।
এ ছাড়া হাদি হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেট (ঢাকা মেট্রো -ল ৫৪-৬৫৭৪) কবিরের এনআইডি দিয়ে কেনা হয়েছে। হত্যার পরিকল্পনাকারী ও ইন্ধন দাতাদের পরিচয় শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য এরই মধ্যে সাতদিন রিমান্ডপ্রাপ্ত এ আসামির ফের রিমান্ড প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর দুপুরে মতিঝিল এলাকায় প্রচার শেষে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তার মাথায় গুলি করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান হাদি।
হাদিকে গুলির ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।


