চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় দুই দলেরই নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত দুই নেতা হলেন, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর ১নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মেহেদী হাসান (৩২) এবং দর্শনা পৌর শ্রমিক কল্যাণ সেক্রেটারি হাসান তারেক (২৭)। তারা রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে আহত তিন সমর্থক হলেন, স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবর রহমান, জুনায়েদ হোসেন ও আশিক।
এ বিষয়ে বেগমপুর ইউনিয়নের জামায়াতের ইসলামীর আমির মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল করছিলেন। এসময় বিএনপির কয়েকজন সমর্থক মদ্যপ অবস্থায় উজলপুর নির্বাচনী অফিসের সামনে মাতলামি করছিলেন। এ সময় আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করায় তারা চড়াও হয়। তারা আমাদের দুজনকে বেধড়ক মারধর করে ও নির্বাচনী অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করে। পরে আহত দুজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
এছাড়া বিএনপির অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
দর্শনা থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আসলাম হোসেন বলেন, ‘রাতে আমার নেতৃত্বে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয়। স্বাভাবিকভাবে মিছিলে কয়েকজন সমর্থক স্লোগানের সঙ্গে নাচানাচি করছিলেন। এ সময় উজলপুর জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে বসে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী আমাদের নেতাকর্মীদের ‘মেথর’ বলে সম্বোধন করেন। এই কথার প্রতিবাদ করি আমরা। এই নিয়েই সামান্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।’
এতে বিএনপির তিনজন সমর্থক আহত হন এবং দলটির উজলপুর নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে, জামায়াতের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও দলটির দুজন আহতের বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আল ইমরান জুয়েল বলেন, ‘আনুমানিক রাত ১২টার দিকে মেহেদী হাসান এবং হাসান তারেক নামে দুজন রোগী আহত অবস্থায় জরুরি বিভাগে আসেন। এদের মধ্যে একজন মাথায় এবং অন্যজন বাম চোখের নিচে আঘাত পেয়েছিলেন।’
ধারণা করা হচ্ছে, শক্ত কাঠ জাতীয় কোনো কিছুতে তারা আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। রাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন তারা।
দর্শনা থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের দুজন এবং বিএনপির একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে জামায়াতের উজলপুর নির্বাচনী অফিসে একটি চেয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’


