ভোটে হেরেছেন, তবে মনোবল হারাননি। পরাজিত হওয়ায় নিজের যাত্রা থামিয়ে দিতেও রাজি নন তিনি। বরং নতুন উদ্যোমে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান।
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর বুধবার এক ফেসবুক পোস্টে এ প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে আবিদ বলেন, ‘আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, আমার যাত্রা আরো অনেক দীর্ঘ। আমি এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন ছাত্রনেতা। কথা দিচ্ছি, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে যা কিছু ছিল, তা একজন ছাত্রনেতা হিসেবেই প্রশাসনের কাছ থেকে আদায় করে নেব। এজন্য যা যা করা দরকার তা আমি করব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির নতুন শুরু তাদের হাত ধরেই হবে এমন প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অতন্দ্র প্রহরী হয়ে রাজপথ পাহারা দেবো, নিজেদের সবটুকু দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসব। ইনশাআল্লাহ, এর প্রতিফলন আপনারা পরবর্তী ডাকসুতে দেখতে পাবেন।’
আবিদুল ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণার জন্য মাত্র ২০ দিন সময় পেয়েছিলেন জানিয়ে ফেসবুকে আবিদ লিখেছেন, ‘মানুষ হিসাবে আমরা কেউ পরিপূর্ণ না। আমি জানি, আমি আপনাদের জন্য যথেষ্ট কাজ করতে পারিনি। সত্যি বলতে জীবন আমাকে সেই সুযোগটুকুও দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের ভোট দিতে আসার জন্য আমি মন থেকে ধন্যবাদ জানাই। মাত্র ২০ দিনের ক্যাম্পেইনে আমি চেষ্টা করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রের কাছে ছুটে যেতে। অনেকটুকু কাছাকাছি গিয়েছি, কিন্তু সবাইকে হয়তো স্পর্শ করতে পারিনি।’
পরেরবার এই খেদটুকু পুষিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশাও ফুটে উঠেছে তার কথায়।
তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র জীবনে আমি এতদূর আসব কোনোদিন ভাবিনি। নির্বাচনের আগের রাতে খালেদ মুহিউদ্দিন ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চাই? আমি কোনো সদুত্তর দিতে পারিনি। আমি আসলে কোনোদিনই জানতাম না নিজেকে কোথায় দেখতে হবে, কোথায় দেখা উচিত।’
‘একের পর এক আন্দোলন-সংগ্রাম এসেছে, নিজেকে রাজপথে সঁপে দিয়েছি। সেই পথ আজ আমাকে এতদূর নিয়ে আসল।’
মঙ্গলবার ভোটের দিনই প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম নিয়ে সরব ছিলেন আবিদুল। ভোট শেষ হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে সেসব কথা তুলেও ধরেন। সেই সঙ্গে শিবিরের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগও করেন।
এ সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘এই নির্বাচনে আমার দিনটা শুরু হয় মিডিয়ার অপপ্রচার দিয়ে। দুপুর থেকেই আমি ভোটে বিভিন্ন যায়গায় একের পর এক সমস্যা খুঁজে পেয়েছি, সারাটা দিন সেসব নিয়ে কথা বলেছি। এই সমস্ত অভিযোগের একটা সুষ্ঠ অনুসন্ধান ও যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসবে বলে এখনো আশা রাখি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এটাও লিখেছেন, ‘আবিদ আপনাদের কখনো ছেড়ে যাবেনা।’
নোবেলজয়ী আফ্রিকান-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের একটি উক্তি দিয়ে নিজের অভিব্যক্তির প্রকাশকে বেঁধেছেন আবিদ। আর সেই উক্তিটি হলো, ‘আমাদের অবশ্যই সীমিত হতাশাকে মেনে নিতে হবে, কিন্তু কখনই অসীম আশা হারানো যাবে না।’


