হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বার্ষিক রথযাত্রা শুক্রবার ঢাকায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। ‘উল্টো রথযাত্রা’ নামে পরিচিত রথের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি ৫ জুলাই শেষ হবে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) আয়োজিত এই বর্ণিল শোভাযাত্রা শুক্রবার বিকেল ৩টায় স্বামীবাগের ইসকন মন্দির থেকে শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রার অনুষ্ঠান হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে।
ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী এই শোভাযাত্রা জয়কালী মন্দির মোড়, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলা মোড়, বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট, পল্টন মোড়, প্রেস ক্লাব, কদম ফোয়ারা, হাইকোর্ট মাজার, দোয়েল চত্বর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জগন্নাথ হল, পলাশী হয়ে শেষ হয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে।

রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নয় দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইসকন।
এদিকে রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে।
ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রথযাত্রার পথে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি নজরদারি এবং পরিকল্পনা অনুসরণ করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
রথযাত্রার উদ্বোধনে ধামরাইয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমান কাল ধরে এ দেশে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশার মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি রেখে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান রথযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা-ধর্ম-বর্ণ-ধনী-গরীব মানুষের অংশগ্রহণ এ ভূখণ্ডের মানুষের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন।’

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটি আয়োজিত “ঐতিহ্যবাহী ধামরাই রথযাত্রা উৎসব”-এর উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘রথের মেলায় এসে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা আনন্দ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই জাতীয় অনুষ্ঠানের মূল শিক্ষা সাম্যের বাণী প্রচার করা। কারুপণ্যের বিখ্যাত পৌর শহর ধামরাইয়ের রথযাত্রা অনুষ্ঠানটি দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রথযাত্রা উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ধামরাইয়ে মাসব্যাপী যে শিল্পমেলার আয়োজন চলে তা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে জানিয়ে তিনি সাধারণ জনগণের সহযোগিতা পেলে এটিকে আরো ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শ্রীশ্রী যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের (অব.) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ও ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুকান্ত বণিক।


