লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রীস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে হবিগঞ্জের দুই যুবক ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নিখোঁজরা হলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সানাবই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে লুৎফুর রহমান (৪০) এবং লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের বাসিন্দা জুনাইদ মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামের দালাল আব্দুস সালামের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে তারা লিবিয়ায় যান।
প্রায় সাড়ে তিন মাস সেখানে থাকার পর গত ২১ মার্চ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে তারা জানান, সেদিনই নৌকায় করে গ্রীসের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফলে দুই পরিবারের সদস্যরা আতঙ্ক, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এরই মধ্যে গত ২৭ মার্চ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রীসগামী একটি নৌকাডুবিতে ২২ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। নিহতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিখোঁজ দুই পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
সানাবই গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহনেওয়াজ জানান, লুৎফুর রহমানের কোনো খোঁজ না পেয়ে তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি চাই দ্রুত যেন তাদের সন্ধান মিলে।’ পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দালালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নিখোঁজ লুৎফুর রহমানের ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২১ মার্চের পর থেকে আমার ভাইয়ের কোনো সন্ধান নেই। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ভাইয়ের সঠিক অবস্থান জানতে না পেরে আমরা এখন দিশেহারা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আব্দুস সালামের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ করতে পারছি না। চুক্তির সময় সে দেশে থাকলেও এখন জানতে পারছি, সে লিবিয়ায় চলে গেছে।’
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দোলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।’


