সংগঠনের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সোমবার দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো– হাদির হত্যা ঘটনা তদন্তের জন্য এফবিআই অথবা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো পেশাদারি এবং নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে যুক্ত করে দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
সিভিল-মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী এবং আইন উপদেষ্টাকে জনগণের কাছে তাদের অপারগতার কারণ প্রকাশ করে এই খুনের সব দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে।
সকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্য সচিব জানান, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনি ও তাদের মদদ দাতাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথ ছাড়বে না।
তিনি বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ এখন থেকে পুরো সময় রাজপথে থাকবে। হাদির খুনি ও খুনিদের মদদ দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ওসমান হাদি।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ বহনকারী বিমান দেশে এসে পৌঁছায়। পরে ২০ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।


