তরুণ নির্মাতা তন্ময় সূর্য নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র ‘হাঙর’। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন অর্নব খান, তাহমিনা অথৈ, ইনতেখাব দিনার এবং নেপালি অভিনেতা প্রমোদ অগ্রহরী। নির্মাতার লক্ষ্য, ছবিটি আসন্ন ঈদুল ফিতরে মুক্তি দেওয়া।
অনেক আগেই ছবিটির গল্প লিখে রেখেছিলেন তন্ময়। সবসময়ই তিনি ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ গল্প বলতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিনেমার গল্প তো অনেক রকম হতে পারে। ধরুন, আমি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ময়লা পেলাম না— এটাও সিনেমার গল্প হতে পারে। কিন্তু আমি চেয়েছি সেই লার্জার দ্যান লাইফ কনফ্লিক্ট বা ক্রাইসিসগুলো নিয়ে কথা বলতে, যেগুলো নিয়ে মানুষ কথা বলতে চায় না, অথচ প্রায় প্রত্যেকের জীবনেই সেগুলো আছে। সে রকম বিষয় নিয়েই আমরা এই সিনেমার গল্প করেছি।’
সহজ ভাষায় নির্মাতা জানান, যেসব বিষয় নিয়ে আমরা সাধারণত কথা বলতে পারি না, সিনেমার মাধ্যমে সেগুলো দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। গল্পে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রামকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তন্ময়ের ভাষায়, এখানে শুধু প্রতিদিনের জীবনের লড়াই নয়, মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রামও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধান চরিত্রে নেপালি অভিনেতা প্রমোদ অগ্রহরীকে নেওয়ার পেছনের যুক্তিও ব্যাখ্যা করেন পরিচালক। তন্ময় বলেন,
‘হাঙর’-এর প্রধান চরিত্রে এমন একজন শিল্পী দরকার ছিল, যাকে অন্যদের থেকে সহজেই আলাদা করে চেনা যায়। যেমন সমুদ্রে শত প্রাণীর মধ্যে হাঙরকে আলাদা করে বোঝা যায়। প্রমোদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয় করোনার পরপরই নেপালে। প্রথম দেখাতেই বুঝে গিয়েছিলাম, আমার সিনেমার প্রধান চরিত্র আমি পেয়ে গেছি।’
বিদেশি শিল্পী হওয়ায় প্রমোদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভাষা। তাকে বাংলায় সংলাপ দিতে হয়েছে, অথচ তিনি বাংলা জানতেন না। এ বিষয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে কি না— জানতে চাইলে তন্ময় বলেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টা চ্যালেঞ্জিং ছিল। একজন বিদেশি শিল্পী আনতে গেলে কিংবা পরিচালক হিসেবে বাইরের কোনো ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলে আন্তর্জাতিক গ্রামার ফলো করতে হয়। আমরা সেটাই করেছি। ও সঠিকভাবে বাংলা শিখেছে। আমিও ওকে ব্রিফ করার জন্য টুকটাক হিন্দি ও নেপালি শিখেছি। তবে আমাদের বেশিরভাগ যোগাযোগ ছিল ইংরেজিতে। পুরো স্ক্রিপ্টের একটি বাংলিশ ভার্সনও করা হয়েছিল ওর সুবিধার জন্য। সব মিলিয়ে ওর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো।’
এবারের ঈদে শাকিব খান, আরিফিন শুভ, সিয়াম আহমেদ ও শরিফুল রাজের মতো তারকাদের সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। থাকছে প্রতিষ্ঠিত নির্মাতাদের ছবিও। সেখানে ‘হাঙ্গর’-এর পরিচালক ও শিল্পীদের বেশিরভাগই নতুন। এই চ্যালেঞ্জ জেনেশুনেই নেওয়া হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নে তন্ময় বলেন, ‘এটা পুরোপুরি প্রযোজকের সিদ্ধান্ত। আমি পরিচালক হিসেবে বলতে পারি, আমরা একটি ভালো সিনেমা বানিয়েছি এবং চাই সেটি দর্শকের কাছে পৌঁছাক। সেই জায়গা থেকে ঈদ উৎসব একটি ভালো অপশন।’
ছবিটিতে মোট তিনটি গান রয়েছে, যেগুলোর সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন অদিত রহমান। দেশের প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতেও ‘হাঙর’ পাঠানোর ইচ্ছা রয়েছে নির্মাতার।


