দীর্ঘ নয় বছর ধরে একাধিক সংস্থার ধারাবাহিক তদন্তেও চট্টগ্রামের আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনকে হত্যার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার ছয় আসামিকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ তদন্ত শেষে গত ১১ জুন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কর্ণফুলী অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার জামাল উদ্দিন চৌধুরী আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তাসফিয়ার মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নয়, বরং পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে মামলার অভিযোগকে তথ্যগতভাবে অসত্য উল্লেখ করে আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এর আগে একই ধরনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রতিবার বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি আবেদন করায় আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাদীপক্ষ কোনো নারাজি আবেদন না করায় আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের সমাপ্তি টানেন।
২০১৭ সালের ১ মে চট্টগ্রাম নগরের গোলপাহাড় এলাকা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় একটি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া আমিন। পরদিন পতেঙ্গা এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার দিন তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন ছয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্তে হত্যার পক্ষে কোনো প্রমাণ না মেলায় আদালতের এই আদেশের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত মামলাটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো।


