জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৫৪তম আবর্তনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। দেড় মাসেরও বেশি সময় পেরোলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র হাতে পাননি নবীন শিক্ষার্থীরা।
যে কারণে গণপরিবহনে হাফ ভাড়া দেওয়া, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রবেশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ইমেইল চালু করাসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে নতুন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
নিয়ম অনুযায়ী, পরিচয়পত্র তৈরির জন্য একাডেমিক বিভাগ, আবাসিক হল, রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং আইটি সেলের সমন্বয়ের পাশাপাশি জেইউপিআইএস পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও একাডেমিক তথ্য জমা দিতে হয়।
কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েকটি আবাসিক হলের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় পুরো প্রক্রিয়াই থমকে আছে বলে জানিয়েছে জাবি প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র।
গত বছর ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শেখ রাসেল হল, শেখ হাসিনা হল এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নামফলক অপসারণ করেন। সেই সঙ্গে তাদের দাবি ছিল এসব হল ‘জুলাই শহীদদের’ নামে নামকরণের।
তবে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো নতুন নাম চূড়ান্ত করতে পারেনি। ফলে হলের নাম নিশ্চিত না থাকায় ঝুলে আছে পরিচয়পত্রের কাজও।
কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেলে, পরিচয়পত্র না থাকায় পাবলিক বাসে হাফ ভাড়া নিতে পারছেন না তারা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ইমেইল অ্যাকাউন্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতেও সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়া হল ও একাডেমিক ভবনের প্রবেশপথে যথাযথ পরিচয় যাচাই না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, ‘হলগুলোর নাম চূড়ান্ত করার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে এখনো আলোচনাধীন। আগামী ২৭ নভেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’
রেজিস্ট্রার দপ্তরের উপ-পরিচালক (শিক্ষা শাখা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা জানান, হলের নাম চূড়ান্তে আরও দেরি হলে প্রশাসন অস্থায়ীভাবে হল নম্বর ১০ (ছাত্র), হল নম্বর ২১ (ছাত্র), হল নম্বর ১৫ (ছাত্রী) এবং হল নম্বর ১৩ (ছাত্রী) নামে পরিচয়পত্র ইস্যুর কথা বিবেচনা করছে।
এ ক্ষেত্রে শুধু প্রথমবর্ষ নয়, সংশ্লিষ্ট হলগুলোর সব আবাসিক শিক্ষার্থীকেই নতুন আইডি কার্ড দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


