হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ১৯ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। উদ্ধার কাজ শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেল স্টেশন এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে পাঁচটি ওয়েল ট্যাংকার বগি লাইনচ্যুত হয়। একটি বগি রেলসেতু থেকে ছিটকে পাশের খালে পড়ে যায়।
রেলওয়ে কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬টি বগি নিয়ে ট্রেনটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। পথে মনতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচটি তেলবাহী বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ফলে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারগুলো থেকে ডিজেল বের হতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা তেল সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে পুলিশ, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ডালিম বলেন, ‘রাতে বিকট শব্দে পাঁচটি তেলবাহী বগি লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় ট্যাংকার থেকে বের হওয়া জ্বালানি তেল সংগ্রহে স্থানীয় লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়েন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।’
রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবি এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতি, রেললাইনের ত্রুটি ও অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
রেলওয়ের এই কর্মকর্তা জানান, পাঁচটি বগিতে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল ছিল। এর মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উদ্ধার কাজ শেষ হয়। এরপর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে খালে পড়ে যাওয়া বগিটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।


